মেনু নির্বাচন করুন

ছবিতে জেলা ব্র্যান্ডিং


বিস্তারিত


চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পর্যটন সার্কিট

 

            আম, কাঁসা, পিতল, লাক্ষা, নকশী কাঁথা ও রেশমের জন্য বিখ্যাত এবং গম্ভীরা, আলকাপ, মেয়েলীগীতের মতো লোকউপাদানে সমৃদ্ধ এলাকা চাঁপাইনবাবগঞ্জ। এ জেলার অতীত অত্যন্ত গৌরবময়। ইসলামী স্থাপত্যকলার অজস্র নিদর্শন বুকে ধরে রাখা চাঁপাইনবাবগঞ্জ এক সময় ছিল প্রাচীন বাংলার এক উল্লেখযোগ্য জনপদ গৌড়ের রাজধানী। ঐতিহ্যবাহী ছোট সোনামসজিদ (১৪৯৩-১৫১৯ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে নির্মিত), দারসবাড়ি মসজিদ ও মাদ্রাসা (১৪৭৯ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত) এর ধ্বংসাবশেষ, শাহ্ সুজার কাছারী বাড়ি (১৬৩৯-৬৯ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে নির্মিত) হযরত শাহ্ নেয়ামতুল্লাহ (রঃ) এর মাযার ও তাহখানা মসজিদ (১৬৬৯ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত) খঞ্জনদীঘির মসজিদ, চাঁপাই জামে মসজিদ প্রভৃতি স্থাপত্যকলা এবং মকরমপুর ঘাটে বল্লাল সেন কর্তৃক নির্মিত শ্মশানবাড়ির ধ্বংসাবশেষ (১১৫৮-৭৯ খ্রিস্টাব্দে) নওদা-বুরুজ বা ষাঁড়-বুরুজ (১১৭৯-১২৩৫ খ্রিঃ এ নির্মিত), নাধাইয়ের জমিদার বাড়ি, নাচোলের রাজবাড়ি, জোড়ামঠ প্রভৃতি হিন্দু স্থাপত্যকলার নিদর্শন চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহাসিক গুরুত্বের পরিচায়ক।

 

            চাঁপাইনবাবগঞ্জ শুধু ঐতিহাসিক নিদর্শনেই সমৃদ্ধ নয়, অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে এখানকার মানুষের সংগ্রামের ইতিহাসও অত্যন্ত গৌরবময়। স্বদেশী ও বহিঃশক্তির প্রতিরোধে যুগে যুগে এ জেলার মানুষের বুকের তাজা রক্তে সিক্ত হয়েছে বরেন্দ্র ভূমির এই তপ্তভূমি। কৃষকের রক্তে প্রথমবারের মতো চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাটি রাঙা হয়ে উঠে ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে রামচন্দ্রপুরহাটে নীলকর জন ক্লাউনের বিরুদ্ধে সংঘটিত নীল বিদ্রোহ। তারপর ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দের জিতুবোটকা ও মানু সরদারের নেতৃত্বে সংঘটিত সাঁওতালদের বিদ্রোহের কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাটিতে রক্ত ঝরে। এরপর ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে ইলামিত্র ও রমেন মিত্রের নেতৃত্বে তেভাগার দাবিতে সংঘটিত নাচোলের কৃষক বিদ্রোহে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সংগ্রামমুখর হয়ে উঠে। ১৯৫২’র ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসীর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গৌরবময়।

 

            অতীত গৌরবে সমৃদ্ধ এবং সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় রয়েছে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা। বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা একজন পর্যটককে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে বাংলার গৌরবময় অতীতে, তেমনি দেশ-বিদেশ থেকে আগত পর্যটকগণ উপভোগ করতে পারবেন বরেন্দ্র অঞ্চলের নির্মল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। এ জেলায় পর্যটকদের জন্য রয়েছে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত তিন তারকা মানের হোটেল; মানসম্মত দেশীয়, উপমহাদেশীয় এবং চাইনিজ খাবারের আধুনিক রেস্তোরা; জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গড়ে উঠছে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত পিকনিক স্পট ও বিনোদন কেন্দ্র।

 

            চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় আগত পর্যটকদের জন্য নিম্নের প্রস্তাবিত ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত স্থানগুলো নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পর্যটন সার্কিট গঠন করলে এ জেলায় আগত একজন পর্যটকের জন্য ভ্রমণটি হবে উপভোগ্য এবং আনন্দময়।

 

Tourism Circuit of Chapainawabganj

            Chapainawabganj is famous for its mango, brass, white brass, nakshi katha and silk and also famous for the folk elements of Ghombhira, Alkap and women folk songs. The past history of this district is glorious & enriched. Having numerous sigus of Islamic Achiteclure, once chapainawabganj was an important locality of Ancient Bengal popularly know as Capital of Gour. Historical Chota Sonamosjid (build in 1493-1519), the relics of Darshabari Mosjid and Madrasa (established in 1479), the chamber of Shah Suja (established in 1639-1669), the shrine of Hazrat Shah Neamotullah and Tahkhana mosque (founded in 1669), the mosques of khonjondighi and Chapai Jumma mosque are the examples of Islamic architecture & the relics of the crematory house established (1158-1176) by Ballal Sen at Mokrampur Ghat, the stupas of Naoda in (1179-1235), the palace of Nadhai, and joint cloister are the examples of Hindu architecture that focus the light of the tradition of Chapainawabganj. Chapainawabganj is rich not only for its historical structure but also for the glorious history of fighting against all oppressions.

 

    The land of Barind has been drenched with fresh blood by the people who fought against the enemy from home and abroad. The soil of Chapainawabganj was first sheded with blood by the farmers in 1859 at Ramchandrapurhat against indigo planter, John Clown in indigo rebellion. Then under the leadership of Jitubatka and Manu Sarkar this soil became  red again with the blood of farmers in the Santhal Bidroha  (Rebellion) in 1932. Then in 1952 both Ramendra Mitra and Ila Mitra organized the Tebhaga (three parts) movement and that movement spreaded throughout the whole Chapainawabganj region. The role of the Chapainawabganj was glorious in the Language movement and in the Liberation War in 1971.

            Enriched with valued architectural structure and naturalistic beauty, there are ample opportunities for tourists in Chapainawabganj district. The tourists can taste the glory of anicient Bengal as well as can enjoy the naturalistic beauty of Barendra region by visiting Chapainawabganj. For tourist entertainment and accommodation facilities there are three-star Hotels equipped with modern amenities, restaurant having standard and delicious food item of diverse culture. A number of picnic spot and leisure centre has been built for tourist attraction. If a Tourism Circuit can be made with proposing architectural sites and naturally beautiful place, tourist can have a better & enjoyable stay in Chapainawabganj.

(ক)      ঐতিহাসিক ছোট সোনা মসজিদ

            চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নে রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ স্থলবন্দর মহাসড়কের পার্শ্বে ঐতিহাসিক“ছোট সোনামসজিদ” অবস্থিত। ছোট সোনামসজিদ ‘সুলতানি স্থাপত্যের রত্ন’ বলে আখ্যাত। এটি বাংলার রাজধানী গৌড়-লখ্নৌতির ফিরোজপুর কোয়াটার্স এর তাহখানা কমপ্লেক্স থেকে অর্ধ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এবং কোতোয়ালী দরওয়াজা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। মসজিদটির উত্তর পার্শ্বে বিশাল একটি দীঘি রয়েছে। মসজিদের সন্নিকটে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্তৃক নির্মিত একটি আধুনিক দ্বিতল গেষ্ট হাউস রয়েছে।

 

 
 
 

 

 

 

 

 

 

 

 

 চিত্রঃ ঐতিহাসিক ছোট সোনা মসজিদ

 

গবেষকরা মনে করেন, সোনামসজিদের পাশ দিয়ে চলে যাওয়া রাস্তাটি পুরনো আমলের এবং একসময় এটি কোতোয়ালী দরওয়াজা হয়ে দক্ষিণের শহরতলীর সঙ্গে গৌড়-লখ্নৌতির মূল শহরের সাথে সংযোগ স্থাপন করেছিল। প্রধান প্রবেশ পথের উপরিভাগে স্থাপিত একটি শিলালিপি অনুযায়ী জনৈক মজলিস-ই-মাজালিস মজলিস মনসুর ওয়ালী মুহম্মদ বিন আলী কর্তৃক মসজিদটি নির্মিত হয়। শিলালিপিতে নির্মাণের সঠিক তারিখ সম্বলিত অক্ষরগুলি মুছে গেছে। তবে এতে সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ- এর নামের উল্লেখ থেকে এটা সুস্পষ্ট যে, মসজিদটি তাঁর রাজত্বকালের (১৪৯৪-১৫১৯) কোন এক সময় নির্মিত হয়েছিল।

(A)   Historical Choto Sona Mosque

 

    Historical “Choto Sona Mosque” is situated at Shahbazpur Union of Shibganj Upazila along Rajshahi-Chapainawabganj-Sona Masjid landport highway in Chapainawabganj district. It is locally called as “Diamond of Sultani architecture”. It is located 0.5 Km away from the South-East part of Tahkhana, the Gour-Lakhnoutir Firozpur Quarters of former capital of Bangla.

There is a bigh dighi in the northern side of this historical mosque. There is a two storied guest house in the western side of the Mosque run by Department of Archeology, Government of the People’s Republic of Bangladesh. According to researchers this road is an old one which may had connected through Kotowali Gate from Southern town to Gour-Lakhnoutir main town. There is a written stone on the surface of the entrance of the main gate and according to the writing, one named Majlish-E-Majalish Majlish Monsur Oali Muhammad Bin Ali built the Small Golden Mosque. The original date has been fade away from the stone. But in the stone the name of Sultan Alauddin Hussain Shah is mentioned and it proves that this “Small Golden Mosque” was built during his tenure between 1494 AD to 1519 AD.

 

 

 

(খ)      শাহ নেয়ামতুল্লাহ (রহঃ) এঁর মাজার তাহখানা

 

            শাহ নেয়ামতুল্লাহ (রহ:) ইসলামের বিখ্যাত প্রচারক ছিলেন যিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের (পূর্ব গৌড়) বিভিন্ন স্থানে ইসলাম প্রচার করেছিলেন। সুলতান শাহ সুজার রাজত্বকালে (১৬৩৯-১৬৬০ খ্রিস্টাব্দে) তিনি বিভিন্ন স্থানে ইসলাম প্রচারের পর করণিয়া, দিলি প্রদেশের রাজমহলে পৌঁছান। শাহ নেয়ামতুল্লাহ (রহ:) এর আগমন বার্তা জানতে পেরে শাহ সুজা যথাযথ সম্মান দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। সুলতান শাহ সুজা তার বাসভবন তাহাখানা প্রাসাদ, হযরত শাহ নেয়ামতুল্লাহ (রহঃ)কে উপহার হিসেবে দেন। তাহাখানা একটি ইরানী শব্দ; যার অর্থ ঠান্ডা প্রাসাদ। ভবনটি শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নে অবস্থিত। পরবর্তীতে তিনি তাহাখানার পার্শ্বে তিন গুম্বুজ বিশিষ্ট একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন।  তিনি দীর্ঘসময় ধরে এই অঞ্চলে খ্যাতি নিয়ে ইসলাম প্রচার করেন। ১৬৬৪ খ্রিস্টাব্দে (১০৭৫ হিজরি) মতান্তরে ১৬৬৯ খ্রিস্টাব্দে (১০৮০ হিজরি) মৃত্যুবরণ করেন। তাহাখানা কমপ্লেক্সে  তাকে সমাধিস্থ করা হয়।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

চিত্রঃ শাহ নেয়ামতুল্লাহ (রহঃ) এঁর মাজার তাহখানা

 

অবস্থান: শাহবাজপুর ইউনিয়ন, শিবাগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

(B)       Shrine of Shah Nimatullah (R.A) and Tahkhana

 

            Shah Nimatullah (R.A) was one of the famous preachers of Islam who preached Islam in the various places of Chapainawabganj (Eastern Gour). During Sultan Sha Suja regime (1639-1660 AD) he reached at Rajmahal from Kroniya, Dili province after preaching Islam in various places. Sha Suja welcomed him with due respect when he came to know the arrival message of Shah Nimatullah (R.A). Sultan Sha Suja gifted his residence Tahkhana palace to Shah Nimatullah (R.A) for his residence. Tahkhana is an Iranian word which means cold palace. Later he established a 3 domed mosque which is still standing there. He preached Islam with reputation in this territory for a long time. He died here in 1075 Hijri (1664 AD) in another source in 1080 Hijri (1669 AD). He had been entombed in Tahkhana complex.

            Historical Tahkhana complex is situated at Shahbajpur Union of Shibganj Upzilla.

 

(গ)      ঐতিহাসিক চামচিকা মসজিদ

            ঐতিহাসিক চামচিকা মসজিদ শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নে অবস্থিত। চামচিকা মসজিদের নামকরণের ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না। তবে বর্তমান ভারতে অবস্থিত বড় চামচিকা মসজিদের আদলেই এটি তৈরী। দারাসবাড়ী মসজিদের মতই পোড়ামাটি ইট ব্যবহার করে এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে। যার দেয়াল কারুকার্য খচিত। এ দেয়ালের পরিধি এত মোটা যে, চৈত্র মাসের প্রচন্ড গরমে এর ভিতরে শীতল পরিবেশ বিদ্যমান থাকে। এর মূল গম্বুজটি অতি সুন্দর। এই মসজিদের উত্তর পার্শ্বে ৬০ বিঘা আয়তনের একটি দিঘী রয়েছে। 

 

 
 
 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

চিত্রঃ ঐতিহাসিক চামচিকা মসজিদ

 

(C)      Historical Chamchika Mosque

            Historical Chamcika mosque is situated at Shahbajpur Union of Shibganj upzilla.  No explanations are found regarding how this mosque was named but it has structural similarity of the Chamchika mosque situated in India. Like Daroshbari this mosque is built with terracotta bricks. Its circumference is so thick that during the month of Chaitra when it is so hot outside but it remains cool inside. The main dome here looks pretty attractive. North to the mosque there is a Dighi whose area is 60 bigha.

 

 

 

(ঘ)      বাবু ডাইং

 

            বাবুডাইং প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট কিছু টিলাভূমির সংমিশ্রণ । এই টিলাভূমি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর উপজেলা ও রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলায় ছড়িয়ে আছে। মূলতঃ রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার বাবুডাইং মৌজার নামে এলাকাটি বাবুডাইং নামে পরিচিত । চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার অংশে বাবুডাইং এলাকাটি ঝিলিম ইউনিয়নের বিলবৈঠা ও চটিগ্রাম মৌজায় অবস্থিত এবং গোদাগাড়ী উপজেলার অংশে মোহনপুর ইউনিয়নের বাবুডাইং, ঝিকড়া, বাংধারা মৌজায় অবস্থিত । বিলবৈঠা মৌজা এবং চটিগ্রাম মৌজার সর্বমোট ১২৩৩.২৪ একর জমি নিয়ে বাবুডাইং বিস্তৃত আকার ধারণ করেছে। ছোট ছোট টিলাভূমি ও প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠা বিভিন্ন ধরণের গাছপালার সমন্বয়ে এ এলাকাটি নৈসর্গিক সৌন্দর্য ধারণ করেছে । এখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও টিলাভূমির  অবয়ব অবলোকন করার জন্য অনেক দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে । এ এলাকায় আদিবাসী সম্প্রদায়ের বসবাস রয়েছে যা এলাকাটিকে অন্যরকম সৌন্দর্য দান করেছে । বাবুডাইং এলাকায় একটি খাড়ী রয়েছে যার স্থানীয় নাম বাবুডাইং খাড়ী । খাড়ীটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মন্ডিত যার উপর ক্রস ড্যাম নির্মিত হয়েছে।

            চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও গোদাগাড়ী উপজেলার বাবুডাইংকে এলাকাটিকে পর্যটন কেন্দ্র ও পিকনিক স্পট হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভাগীয় কমিশনার, রাজশাহী বিভাগ, রাজশাহী মহোদয় ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছেন। এছাড়াও রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী

 

 

 

 

 

চিত্রঃ বাবু ডাইং

 

            উপজেলা এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর উপজেলাধীন বাবুডাইং এলাকায় শিক্ষাপল্লী এবং ওয়ারেন্ট অফিসার্স প্রশিক্ষণ একাডেমী স্থাপনের জন্য ১৯৮.৪০ একর জমি সাইট প্লানসহ  প্রস্তুত করা  হয়েছে । চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর উপজেলায় বাবুডাইং এলাকাটি মিনি পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

(D)      Babudaing

            Babudaing is naturally a combination of some tilabhumi (slopy terrain). This tilabhumi is spread over Sadar upazila of Chapainawabganj district and Godagari upazila of Rajshahi district. Originally it is named Babudaing as the name of the mouja named Babudaing in Godagari upazila of Rajshahi district.

 

            The Babudaing area is the part of Sadar upazila of Chapainawabganj district which is situated at Boitha and Chattigram Mouja of Jhilim Union and in Godagari upazila is located in Babudaing, Jhikra, Banghara Mouja of Mohanpur Union. Babudaing occupies an enormous area with a total of 1233.24 acres of land in Bilboitha Mouza and Chattigram mouza.

 

 

            With small tilabhumi and a variety of natural vegetation grown in this area, it is a place of naturalistic beauty. Everyday many visitors visit the natural beauty and the unique landscape of Babudaing. There are indigenous communities living in this area which attributes a different cultural beauty of this place. There is a ditch in the Babudaing area, whose local name is Babudaing Khari. The khari is a natural beauty on which a cross-dam has been built.

 

            Divisional commissioner, Rajshahi Division, Rajshahi has already started the work to build Babudaing tourist center and Picnic spot in Chapainawabganj Sadar and Godagari upazila. Apart from this, 198.40 acres of land has been prepared with the site plan to set up the training and warrant officers training academy in Godagari upazila of Rajshahi district and Babudaing area under Sadar upazila of Chapainawabganj district.  Activities are underway to develop the Babudaing area as a mini tourist area in Sadar upazila of Chapainawabganj district.

 

 

(ঙ)      তেভাগা আন্দোলনের নেত্রী ইলা মিত্রের স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনা:

 

            তেভাগা আন্দোলনসহ ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের পরিচিত মুখ ইলা মিত্র কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন। তিনি একজন সুপরিচিত ক্রীড়াবিদ ছিলেন। ১৯৪০ সালের অলিম্পিকে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে বাছাই-বল খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। তিনি ছাত্র জীবনে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করেন। তার বিয়ের পর তিনি ব্রিটিশ বাংলা মালদাহ জেলার কৃষক সমিতির জেলা সভাপতি নির্বাচিত হন। বিবাহ পরবর্তী সময়ে তিনি তার স্বামীর সাথে বসবাসের জন্য বাংলাদেশে এসেছিলেন। তিনি নাচোল উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের কেন্দুয়া গ্রামে স্বামীর সাথে সবসাস করতেন। তিনি তাঁর স্বামী ও বন্ধুদের সহায়তায় মেয়েদের স্কুলে "সবার জন্য শিক্ষা" আন্দোলনের অংশ হিসেবে নারীর নিরক্ষরতা অপসারণের জন্য স্বেচ্ছায় শিক্ষাদান কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। অতি অল্প সময়ের মধ্যে তিনি নারী, বিশেষত মহিলাদের মধ্যে রাজনৈতিক ও মানবাধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে সক্ষম হন। নাচোলের স্থানীয় আদিবাসী “সাঁওতাল” জনগোষ্ঠীর লোকজন ইলা মিত্রকে রানী মা বলে ডাকতো।

 

 

 

 

 

 

 

চিত্রঃ ইলা মিত্রের স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনা

১৯৪৬ থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত "সাঁওতাল বিপ্লব" এবং "নাচোল বিদ্রোহে" ইলা মিত্র স্থানীয় লোকজনকে সংগঠিত করার মূল ভূমিকা পালন করেন। তেভাগা আন্দোলন নামে পরিচিত এই আন্দোলনটির মূল বিষয় ছিলো বপন করা ফসলের দুই তৃতীয়াংশের  মালিক হবে চাষীরা, বাকী অংশ হবে মালিকদের । ইলা মিত্র তার জীবদ্দশায় অনেকগুলি রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্থার সাথে সম্পৃক্ত থাকলেও তিনি এই বিশেষ আন্দোলনের জন্যই অধিক পরিচিত।

6

আন্দোলন চলাকালে স্থানীয় মানুষ ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে ইলা মিত্রকে গ্রেফতার করা হয় এবং অমানবিক নির্যাতন করা হয়। তার শারিরীক অবস্থার অবনতি ঘটলে সরকার তাকে ১৯৫৪ সালে চিকিৎসার জন্য কলকাতা পাঠায়। তার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিকবার পুলিশি নির্যাতনের শিকার হলেও তিনি দমে যাননি। তিনি চারবার ভারতীয় প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে তিনি স্বাধীনতাকামী বাঙ্গালীর পক্ষালম্বন করেছিল। আজন্ম সংগ্রামী এই মহীয়সী নারী ১৩ অক্টোবর, ২০০২ খ্রিস্টাব্দে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। নাচোল উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের কেন্দুয়া গ্রামে ১৩৮ নম্বর মৌজায় ইলা মিত্রের স্মৃতি রক্ষার্থে স্থাপনা নির্মিত হয়েছে।

 

(E)       Tebagha leader Ila Mitra's memorial

            Ila Mitra, a well known figure of anti-British movement was born in Calcutta and studied in Calcutta University. She was selected as a basket ball player to represent India for 1940 Tokyo Olympic. She participated in political activities as a member of all India communist party in her student life. After her marriage she came to Bangladesh to live with her husband who was a son of the Zamindar family. She lived in her in-laws house with her husband which was at Kendua village of Nejampur union in Nachole upzilla. She opened a girl’s school with the help of her husband and friends and voluntarily taught the women to remove illiteracy as a movement of “Education for all”. Soon she started to make awareness about political and human rights among men and specially women in the village.

            In that village one of the ethnic groups in Bangladesh called “Santal” was the majority of the local people to whom Ila Mitra became “Rani mata,” their queen. Ila Mitra played the main role to organize all the local people to take part in the “Santal Revolution” and “Nachol Uprising” during 1946 to 1950. This movement was popularly known as Tebhagha movement which was aimed to distribute two-third share of the cultivated crop among the peasant class and rest would for the owners. Ila Mitra also assisted in many other political and social organizations but she is mostly known for this particular movement. During a clash between local people and police Ila Mitra was arrested and inhumanly tortured. When her condition deteriorated government sent her to Kolkata in 1954 for treatment. During her life long political carrer, she was tortured several times by law enforcing agencies but those atrocities could not dishearten her. For four times she was elected for provincial assembly in India which prove her dedication to her work..

 

     This legendary born revolutionary breathed her last breath on 13th October, 2002.

 

(চ)      আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

            আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র (পূর্বের নাম আম গবেষণা কেন্দ্র), চাঁপাইনবাবগঞ্জ দেশের একমাত্র গবেষণা কেন্দ্র যারা আমকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে গবেষণা করে থাকে। আম চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার প্রধান অর্থকরী  ফসল। ঊনবিংশ শতাব্দির শেষের দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন আম বাগানে হপার এবং এপসিলা পোকার আক্রমণের কারণে আম চাষীরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিলেন।

7

আম চাষীদের এ ধরণের সমস্যার কথা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে তৎকালীন সরকার ১৯৮৫ সালে আম গবেষণা কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা করেন।

20170124_105230

    চিত্রঃ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র

 

            এই কেন্দ্রটি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধীনে পরিচালিত। প্রতিষ্ঠাকালিন সময়ে এই কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছিলেন ড. মো. আব্দুল জলিল ভুঁঞা। পরবর্তীতে গবেষণার পরিধি বিস্তৃত করে ১৯৯০ সালে কেন্দ্রটির নাম আম গবেষণা কেন্দ্র হতে পরিবর্তন করে আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র করা হয়। এরপর অত্র কেন্দ্রে আমের পাশাপাশি বেল, কুল, ডালিম, কাঁঠাল, আতা, শরিফা ইত্যাদি ফলের উপর গবেষণা শুরু হয়। অত্র কেন্দ্রটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র বিশ্বরোড মোড় সংলগ্ন এবং ১২.২২ হেক্টর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত। এই গবেষণা প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৬ জন বিজ্ঞানী, ১৩ জন কর্মচারী, ২৩ জন শ্রমিক এবং ১০ জন আনসার সদস্য। প্রতিষ্ঠার পর থেকে  অত্র কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা আমসহ অন্যান্য ফলের বিভিন্ন প্রকার সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও সেগুলো সমাধানের জন্য বিভিন্ন লাগসই প্রযু্ক্তি উদ্ভাবন করেছেন।  পাশাপাশি বিভিন্ন ফলের নতুন নতুন জাতও উদ্ভাবন করেছেন। উদ্ভাবিত প্রযুক্তিগুলো ব্যবহার করে চাষীরা উপকৃত হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। ফলে এই অঞ্চল আমসহ অন্যান্য ফল উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করছে। শুধু তাই নয়, তাদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তিসমূহ দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ন অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছে।

 

(F)       Regional Horticulture Research Centre, Chapainawabganj

            Regional Horticulture Research centre (Formerly known as Mango Research Centre) is the only research centre in Bangladesh where mango is the first research priority. Mango is the main cash crop of Chapainawabganj district. At the end of the nineteen century, the mango producers of Chapainawabganj district were experiencing massive economic loss in mango production because of mango hopper and epsilla pest infestation. Considering this problem of the mango producer, the government established the mango research centre in the year of 1985. This centre is running under the administration of Bangladesh Agricultural Research Institute (BARC), Joydebpur, and Gazipur. Dr. Md. Abdul Jalil Bhuiya was the first in-charge of this centre at the time of establishment. In the year of 1990, it was renamed as the Regional Horticultural Research centre from Mango Research Station to increase research scope in diverse area of horticulture.

     Then besides mango, the scientists start research on jackfruit, bel, ber, pomegranate, bullock’s heart and custard apple. This centre had 12.22 hectares of land area and situated at the center of the Chapainawabganj town adjacent to the Bishawroad moor. At present 6 scientists, 12 supporting staffs, 23 labors and 10 ansar members are working in this research centre.

 

8

From the very beginning, the scientists of this research center have developed various sustainable technology for problem identification and their management of various fruits including mango production. Not only this, the center has also developed new varieties of different fruits. The farmers are being benefited by using these developed technologies regularly. As a result, this region is playing important role in fruit production. Not only this, their developed technologies are contributing a lot to the socio-economic development of the country.

 

(ছ)      মহানন্দা নদী

            মহানন্দা নদীটি বাংলাদেশ ও ভারতের একটি আন্তঃ সীমান্ত নদী। এটি বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য ২৪ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ২০০ মিটার এবং নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার।

 

 
 
 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 চিত্রঃ মহানন্দা নদী।

 

            মহানন্দা নদী বাংলাদেশে গঙ্গার একমাত্র উপনদী । নেপালের দক্ষিণ-পশ্চিমস্থ হিমালয় থেকে উদ্ভূত হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে কার্সিয়াং দিয়ে শিলিগুড়ি  অতিক্রম করে পশ্চিমবঙ্গের পূর্ণিয়া ও মালদহ জেলার মধ্য দিয়ে দক্ষিণপূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটের কাছ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে । বাংলাদেশ সীমানায় প্রবেশের পর চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরকে বামতীরে রেখে গোদাগাড়ীতে গিয়ে গঙ্গায় পতিত হয়েছে । বাংলাদেশে এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৬ কি.মি । উইলিয়ম উইলসন হান্টারের জরিপ (১৮৭৬) থেকে জানা যায়, মহানন্দা একসময় একটি প্রশস্ত এবং গভীর নদী ছিল, যার বুকে চলাচল করত বড় বড় মালবাহী নৌকা । চলার পথে এই নদী কোন উপনদী গ্রহণ করেনি কিংবা এর থেকে কোন শাখাও বেরিয়ে যায়নি ।

(G)   Mahananda River

            The Mahananda River is an inter-border river of Bangladesh and India. It is a river of northwestern Bangladesh. The length of the river is 24 km, the average width is 200 meters, and the river is serpentine shaped.

            Mahananda River is the only tributary of river Ganges. Flowing from the south-western Himalayas in Nepal, crossing Siliguri on the south-west of Karasiyang, through the south-eastern part of Purnia and Malda districts of West Bengal, the river entres into Bangladesh through Bholahat upzilla.

            After entering Bangladesh, Mahananda river flows alongside of the Chapainawabganj town and confluence with Padma river near Godadari upzilla of Rajshahi district.

 

9

Bangladesh's length of Mahananda is about 36 km. According to, the William Wilson Hunter survey (1876) Mahananda was once a wide and deep river, on which numerous freight boat were sailed regularly. Mahananda River does not have any branch river.

 

(জ)      ষাঁড়বুরুজ

            প্রাচীন স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ ষাঁড়বুরুজ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পশ্চিমের উপজেলা গোমস্তাপুরের রহনপুরে অবস্থিত। ঐতিহাসিকদের কেউ কেউ মতামত ব্যক্ত করেছেন, মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীর সংগম স্থলে ছিল সেনরাজ বিজয় সেনের পৌত্র লক্ষণ সেনের রাজধানী নওদা। মিনহাজ-ই-সিরাজ তাঁর তবকাৎ-ই-নাসিরী গ্রন্থে একেই ‘নওদীহ’ নামে উল্লেখ করেছেন।

 

 

 

 

 

 

 

 

চিত্রঃ ষাঁড়বুরুজ

 

            প্রাচীন দেয়ালের ভিত্তি, ইট ও প্রাপ্ত পুরাকীর্তি থেকে ঐতিহাসিকেরা ধারণা করছেন, এখানেই প্রাচীন নগর ছিল। এখান থেকেই নৌপথে সেন রাজা লক্ষ্মণ সেন পুনর্ভবা ও মহানন্দা নদী হয়ে সুলতানগঞ্জের কাছে পদ্মা নদীপথে বিক্রমপুর পালিয়ে গিয়েছিলেন। ঐতিহাসিকগণের ধারণা ১১৭৯ খ্রিঃ থেকে ১২০৫ খ্রিঃ মধ্যকার কোন সময়ে এ প্রাচীন স্থাপত্যটি নির্মিত হয়েছিলো। এ প্রাচীন স্থাপনাটির মোট আয়তন ১.৩৫ একর।

(H)   Sharburuj

     Sharburij, the relics of ancient structure is situated at Rohonpur of Gomostapur upzilla. Some historians have expressed their opinion; the capital of Laxman Sen, grandson of Vijay Sen Nawada was located at this place, which is the juncture of Mahananda and Punarbaba river. Minhaj-e-Siraj, in his book Taktat-i-Nasiri, referred to it as 'Nawdih'. From the tower, the ancient wall, bricks, and the antiquities found here, the historian believed that the ancient city was here.From here onwards, the king Laxman Sen fled to Bikrampur along the Padma River near Sultananganj, through Punarbhaba and Mahananda River.

     According to the historians, this ancient structure was built in between 1179 A.D. to 1205 A.D. The total area of this structures 1.35 acres.

 

 

১০

(ঝ)      দারসবাড়ী মসজিদ

http://www.chapainawabganj.gov.bd/sites/default/files/files/www.chapainawabganj.gov.bd/tourist_spot/94d206cd_1ab1_11e7_8120_286ed488c766/dasbari%20moszid.jpg            দারাসবাড়ী মসজিদটি বাংলার প্রথম দিদকার মুসলিম স্থাপত্যের একটি উল্লেখযোগ্য নিদর্শন। ঐতিহাসিক ছোট সোনামসজিদ ও কোতোয়ালী দরজার মধ্যবর্তী স্থানে ওমরপুরের সন্নিকটে দারাসবাড়ী মসজিদ অবস্থিত। দর্স অর্থ পাঠ। ঐতিহাসিকরা মনে করেন, মসজিদটির সন্নিকটে একটি মাদরাসা ছিল যেখানে এলাকার ছেলে-মেয়রা ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করত। সেই থেকে মসজিদটি দারাসবাড়ী নামে প্রচলিত হয়ে আসছে।

 

 

 

 

 

 

 

 

চিত্রঃ দারসবাড়ী মসজিদ

 

            ইতিহাসবিদ মুনশী এলাহী বখশ কর্তৃক আবিস্কৃত একটি আরবী শিলালিপি অনুযায়ী (লিপি-দৈর্ঘ্য ১১ ফুট ৩ ইঞ্চি, প্রস্থ ২ফুট ১ ইঞ্চি) ১৪৭৯ খ্রিস্টাব্দে (হিজরী ৮৮৪) সুলতান শামস উদ্দীন ইউসুফ শাহের রাজত্বকালে তাঁরই আদেশক্রমে এই মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়। ইট নির্মিত এই মসজিদের অভ্যন্তর ভাগ দুই অংশে বিভক্ত। মসজিদটির পূর্ব পার্শ্বে একটি বারান্দা ছিল যার উচ্চতা ১০ ফুট ৭ ইঞ্চি। বারান্দার খিলানে ৭টি প্রস্তর স্তম্ভের উপরের ৬টি ক্ষুদ্রাকৃতি গম্বুজ আছে; যার মধ্যবর্তীটি অপেক্ষাকৃত বড় ছিল। উপরে ৯টি গম্বুজের চিহ্নাবশেষ রয়েছে। উত্তর দক্ষিণে ৩টি করে জানালা ছিল। উত্তর পশ্চিম কোণে মহিলাদের নামাজের জন্য প্রস্তরস্তম্ভের উপরে একটি ছাদ ছিল। প্রস্তর স্তম্ভের উপরে একটি মেহরাব বিদ্যমান। এছাড়াও পশ্চিম দেয়ালে পাশাপাশি ৩টি করে মোট ৯টি কারুকার্য খচিত মেহরাব বর্তমান রয়েছে। এই মসজিদের চারপাশের দেয়াল ও কয়েকটি প্রস্তর স্তম্ভের মূলদেশ ব্যতীত আর কিছুই অবশিষ্ট নেই । এখানে প্রাপ্ত তোগরা অক্ষরে উৎকীর্ণ ইউসুফি শাহী লিপিটি এখন কলকাতা যাদুঘরে রক্ষিত আছে। জেনারেল ক্যানিংহাম তার নিজের ভাষাতে একে দারসবাড়ী বা কলেজ বলেছেন। এ ঐতিহাসিক কীর্তির মাত্র কয়েকগজ দূরে ভারতীয় সীমান্ত।

 

(I)    Historical Darosbari Mosque

     Darosbari mosque is one of the primitive Islamic architecture of Bengal. It is situated near Omorpur which is adjacent of Choto Sona Mosque and Kotwali dorwaja. ‘Daros’ means ‘lesson’. According to historians, there was a madrasa near the mosque which was a religious learning centre of local children. Hence, the mosque was known as Darosbari mosque. According to a written stone discovered  by historian Munshi Elhaee Baks, this mosque was built by Sultan Sams Uddin Yusuf in 1479 A.D. (hijri 884). This brick built mosque is divided into two parts. There is a varanda in the eastern side of the mosque which is about 11 feet high. In the arch, there are six (06) domes on seven (07) stone pillars. Among those dome the middle one was relatively bigger. On the rooftop, there are relics of another nine (09) domes. There are three (03) windows in south and north walls each. There was a prayer room for women. Now, side walls and some stone pillars are visible and rest are relics of glorious past and finest form of Islamic architecture.

 

 

১১

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পর্যটন সার্কিট

 

আম, কাঁসা, পিতল, লাক্ষা, নকশী কাঁথা ও রেশমের জন্য বিখ্যাত এবং গম্ভীরা, আলকাপ, মেয়েলীগীতের মতো লোকউপাদানে সমৃদ্ধ এলাকা চাঁপাইনবাবগঞ্জ। এ জেলার অতীত অত্যন্ত গৌরবময়। ইসলামী স্থাপত্যকলার অজস্র নিদর্শন বুকে ধরে রাখা চাঁপাইনবাবগঞ্জ এক সময় ছিল প্রাচীন বাংলার এক উল্লেখযোগ্য জনপদ গৌড়ের রাজধানী। ঐতিহ্যবাহী ছোট সোনামসজিদ (১৪৯৩-১৫১৯ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে নির্মিত), দারসবাড়ি মসজিদ ও মাদ্রাসা (১৪৭৯ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত) এর ধ্বংসাবশেষ, শাহ্ সুজার কাছারী বাড়ি (১৬৩৯-৬৯ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে নির্মিত) হযরত শাহ্ নেয়ামতুল্লাহ (রঃ) এর মাযার ও তাহখানা মসজিদ (১৬৬৯ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত) খঞ্জনদীঘির মসজিদ, চাঁপাই জামে মসজিদ প্রভৃতি স্থাপত্যকলা এবং মকরমপুর ঘাটে বল্লাল সেন কর্তৃক নির্মিত শ্মশানবাড়ির ধ্বংসাবশেষ (১১৫৮-৭৯ খ্রিস্টাব্দে) নওদা-বুরুজ বা ষাঁড়-বুরুজ (১১৭৯-১২৩৫ খ্রিঃ এ নির্মিত), নাধাইয়ের জমিদার বাড়ি, নাচোলের রাজবাড়ি, জোড়ামঠ প্রভৃতি হিন্দু স্থাপত্যকলার নিদর্শন চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহাসিক গুরুত্বের পরিচায়ক।

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ শুধু ঐতিহাসিক নিদর্শনেই সমৃদ্ধ নয়, অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে এখানকার মানুষের সংগ্রামের ইতিহাসও অত্যন্ত গৌরবময়। স্বদেশী ও বহিঃশক্তির প্রতিরোধে যুগে যুগে এ জেলার মানুষের বুকের তাজা রক্তে সিক্ত হয়েছে বরেন্দ্র ভূমির এই তপ্তভূমি। কৃষকের রক্তে প্রথমবারের মতো চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাটি রাঙা হয়ে উঠে ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে রামচন্দ্রপুরহাটে নীলকর জন ক্লাউনের বিরুদ্ধে সংঘটিত নীল বিদ্রোহ। তারপর ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দের জিতুবোটকা ও মানু সরদারের নেতৃত্বে সংঘটিত সাঁওতালদের বিদ্রোহের কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাটিতে রক্ত ঝরে। এরপর



Share with :

Facebook Twitter